ঢাকা , বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ , ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘাটাইলে সড়ক দখল করে বসছে হাট-বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৭-২৮ ২০:১৬:৫৪
ঘাটাইলে সড়ক দখল করে বসছে হাট-বাজার ঘাটাইলে সড়ক দখল করে বসছে হাট-বাজার
মোঃ সবুজ সরকার সৌরভ, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ


টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কমহাসড়ক দখল করে নিয়মিত বসছে হাট-বাজার। হাটের নিজস্ব জায়গা থাকা সত্ত্বেও সড়কের ওপর বাজার পরিচালিত হওয়ায় প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতকারী যাত্রীরা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির চিত্র দেখা যায় উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলের গারোবাজার, সাগরদীঘি, জোড়দীঘি, ধলাপাড়া ও চাপড়ি হাটে। এছাড়া টাঙ্গাইল–ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাকুটিয়া, ব্রাহ্মণশাসন, কদমতলী ও হামিদপুর হাটেও একই চিত্র বিরাজ করছে। হাটের নির্ধারিত জায়গা ফাঁকা রেখেই সড়কের ওপর বসানো হচ্ছে আনারস, কাঁঠাল, কলা, ধান, সবজি ও অন্যান্য পণ্যের বাজার। বিশেষ করে গারোবাজার ও সাগরদীঘি হাটে সাপ্তাহিক দুই দিনের হাট ছাড়াও বর্ষা মৌসুমে প্রতিদিনই ফল ও কৃষিপণ্যের বাজার বসে। ফলে বাজারসংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে বিভিন্ন যানবাহন।


সরেজমিনে গারোবাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের মাঝেই চলছে কেনাবেচা। বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতা ও পরিবহন একসঙ্গে চলাচল করায় পুরো এলাকায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। এতে অ্যাম্বুলেন্স, বাস, ট্রাক, সিএনজি ও মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহন দীর্ঘ সময় আটকা পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল, মধুপুর ও ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার সংযোগস্থলে অবস্থিত গারোবাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। বাজারটির সঙ্গে পাঁচটি পাকা সড়কের সংযোগ রয়েছে। গারোবাজার–পোড়াবাড়ি এবং গারোবাজার–ফুলবাড়িয়া সড়ক বাজারটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। একই সময়ে সিরাজনগর গারোবাজার ও সুনামগঞ্জ গারোবাজার নামে দুটি পৃথক হাট বসে। সুনামগঞ্জ গারোবাজারের প্রায় আট একর সরকারি সম্পত্তি থাকলেও এর অনেক অংশ প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে সড়কের ওপরই বসছে ফল ও কৃষিপণ্যের বাজার। চলতি অর্থবছরে এ হাটের ইজারা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ লাখ ৫১ হাজার ৫০০ টাকা। অপরদিকে সিরাজনগর গারোবাজার অংশের প্রায় ৩৭৭ শতাংশ সরকারি জমিরও বড় একটি অংশ দখলে রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এ অংশের ইজারা মূল্য প্রায় ২৭ লাখ টাকা। যানজটে আটকে পড়া যাত্রী ফজলুল হক বলেন, “আমাদের দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই। যারা হাটের ইজারা দিয়েছে এবং যারা নিয়েছে, তারাই সড়ক দখল করে বাজার বসিয়ে খাজনা আদায় করছে। সাধারণ মানুষের কষ্টে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।” স্থানীয় কবি ও কৃষক ইদ্রিস কাজল বলেন, “এই এলাকায় কোনো গুরুতর অসুস্থ রোগীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে হলে বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়। দীর্ঘ যানজটে রোগীর জীবনও বিপন্ন হতে পারে। জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত বিকল্প সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।” এক পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মানুষের দুর্ভোগ বা রোগীর মৃত্যুঝুঁকি—কোনো কিছুরই যেন গুরুত্ব নেই। দ্রুত এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।” মুরাইদ সিরাজনগর গারোবাজার পরিচালনা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম তরফদার বলেন, “ইজারাদারদের সঙ্গে নিয়ে আমরা বাজারকে নির্ধারিত জায়গায় স্থানান্তরের চেষ্টা করি। কিন্তু ব্যবসায়ী ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের অনীহার কারণে তা পুরোপুরি সম্ভব হচ্ছে না।


বিষয়টি রাজনৈতিকপ্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।” এ বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, “সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। জনদুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।” দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ সমস্যার দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানে হাটকে নিজস্ব জায়গায় স্থানান্তর, সড়ক দখলমুক্ত রাখা এবং বিকল্প সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : lifestyledesign847@gmail.com

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ